মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৪.৯৭%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৮৭৩ জন পরীক্ষার্থী।
দেশ সেরা রাজশাহী:
পাসের হারে দেশসেরা ফল অর্জন করলেও গতবছরের তুলনায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এ বছর কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
বোর্ড সেরা ফলাফল করেছে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। স্কুলটি থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৪২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২০ জন।
শনিবার দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের দেয়া ফলাফল থেকে জানা যায়, এ বছর ১ লাখ ২৭৫২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২১ হাজার ১০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৮৭৩ জন শিক্ষার্থী।
গতবছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৬.৩৪%। ওই বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২২১৬৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছিল ১ লাখ ১৭৬৯৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৯৮১৫ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণ :
এবার গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৩ হাজার ৯৪২ জন। আর পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
এ বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ছেলেরা এগিয়ে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬০ হাজার ৮৩১ জন ছাত্রীর মধ্যে ৯৫.০৯ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ২৬১ জন। অন্যদিকে ৬৬ হাজার ৬৮৯ জন ছাত্রের মধ্যে পাসের হার এবার ৯৪.৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৬১২ জন।
এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই হাজার ৫৮৮টি স্কুলের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে ৯৬৯টি স্কুলের পরীক্ষার্থীরা। শূন্য শতাংশ পাসের হার নেই কোনো স্কুলেই।
এ বছর রাজশাহী বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার ৪২৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৭৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ১১৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৬০ হাজার ৫৩২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৫ হাজার ৫৩০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫৩ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৫ হাজার ৫৬১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৪ হাজার ৮০৬ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৫ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবুল হায়াত বলেন, 'এবার পরীক্ষার সময় নাশকতার কারণে ফলাফল গতবারের চেয়ে কিছুটা খারাপ হয়েছে। এছাড়া এবার প্রথমবারের মত গণিত সৃজনশীল হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। তারপরও গতবারের ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এবার ফলাফল ভাল হয়েছে।'
এ উপলক্ষে বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. সামসুল কালাম আজাদ বলেন, ভালো হওয়ার পেছনে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র সস্পর্কে শিক্ষকদের আগাম প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের অনুশীলন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে। পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ না থাকলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারতো।
সেরা কুড়িতে বগুড়ার ৬, রাজশাহীর ৫ স্কুল:
এবার এসএসসির ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সেরা কুড়িটি স্কুলের মধ্যে বগুড়ার ৭টি এবং রাজশাহীর ৫টি স্কুল উঠে এসেছে।
এছাড়া পাবনার ৪টি এবং জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের একটি করে স্কুল সেরা কুড়িতে এসেছে।
এগুলো হলো যথাক্রমে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ; বগুড়া জেলা স্কুল; রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ; রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল; বগুড়া গভ. গার্লস হাইস্কুল; পাবনা ক্যাডেট কলেজ; রাজশাহী গভ. গার্লস হাইস্কুল; বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বগুড়া; গভ. পি.এন. গার্লস হাইস্কুল, রাজশাহী; এসওএস হারমান গুণিয়ার কলেজ, বগুড়া; গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, রাজশাহী; পাবনা জেলা স্কুল; নওগাঁ গভ. কে.ডি হাইস্কুল; পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ বগুড়া; আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল, বগুড়া; পাবনা গভ. গার্লস হাই স্কুল; মোমেনা আলী বিজ্ঞান কলেজ, সিরাজগঞ্জ; আল-হেরা একাডেমি পাবনা; জয়পুরহাট আর.বি গভ. হাই স্কুল; কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, নাটোর।
সার্বিক ফল বিশ্লেষণে পাওয়া যায়:
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৪.৯৭%।
আর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৮৮. ৬৫% শিক্ষার্থী। এই বোর্ডে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পেয়েছে ৩৬৮০১ জন।
তবে ঢাকার পরে রাজশাহী বোর্ডেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই বোর্ডে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৮৭৩ জন।
এদিকে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৮১.৮২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৫২ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮২.৭৭ %, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১১৬ জন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৪.২২%, পূর্ণাঙ্গ জিপি পেয়েছে ১০১৯৫ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৮৪.৩৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১৭১ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৪.০২ %, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১৮১ জন।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৮১. ৮২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৫২ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৮৫. ৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮৪২ জন।
সব মিলিয়ে কমলেও এবার পাসের হার বেড়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করেছে ৯০.২% শিক্ষার্থী, যেখানে গতবছর এই হার ছিল ৮৯.২৫%।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৮৩.০১%। গতবছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮১.৯৭%।
শনিবার সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৭.০৪%, যা গতবছরের তুলনায় ৪ .৩% কম।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পেয়েছে ১ লাখ ১১৯০১ জন, যেখানে গতবছর পেয়েছিল ১ লাখ ৪২২৭৬ জন।