শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো উপাচার্যের কার্যালয়ের ফটকে তাল ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকরা উপাচার্য কার্যালয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ফটকের সামনেই অবস্থান নেন।
তবে উপাচার্য ড. আমিনুল হক ভূইয়া ক্যাম্পাসে আসেননি।
প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।–ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
এরআগে, উপাচার্য আমিনুল হক ভুঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন তারা।
জানা গেছে, ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সোমবার কাজে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রক্টরসহ প্রশাসনের চারটি পদে নিয়োগ দেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে উপাচার্যের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে কাজে যোগ দেন উপাচার্য মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া। উপাচার্য প্রক্টর হিসেবে বন ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন জন নতুন সহকারি প্রক্টর হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিউল ইসলাম, গণিত বিভাগের প্রভাষক ওমর ফারুক ও আইপিই বিভাগের সহকারি অধ্যাপক জাহিদ হাসান। তারা সবাই সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের একাংশ ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ এ সমর্থক।
যোগ দেয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের আরেক অংশ উপাচার্যের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের বসার কক্ষ কে কয়টি পাবে, তা নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান ও পুর এবং পরিবেশ (সিইই) বিভাগের দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্ব ছিল। পরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান এবং ভূগোল ও পরিবেশ (জিইই) বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক এ বিষয়ে কথা বলতে গত ১২ এপ্রিল উপাচার্যের দপ্তরে যান।
এ সময় উপাচার্যের স্ত্রীর অসুস্থতার খবর এলে তিনি তাদের বেশি দিতে চাননি। এ নিয়ে একজন শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে ও উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন। তখন উপাচার্য সবাইকে সংযত আচরণ করতে বলেন। বিষয়টিকে শিক্ষকদের উপাচার্যের ‘অপমান’ হিসেবে অভিহিত করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের একাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য দুই মাসের ছুটিতে যান। ছুটি শেষে ২৪ জুন তার কাজে যোগ দেয়ার কথা ছিল। ছুটি শেষের ২ দিন আগেই কাজে যোগ এবং নিয়োগ দেন।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার-সমর্থক দুই শিক্ষক ফোরাম বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে।
গত রোববার দুপুরে এক পক্ষ প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘উপাচার্যের অপসারণের’ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও অপর পক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’ চলছে দাবি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।