স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষ্যম দূর করা এবং উপাচার্যদের পদমর্যাদা জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ বিশেষ স্কেলের সমান করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা না বাড়ালে অস্থির হয়ে পড়বে ক্যাম্পাসগুলো বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপাচার্যরা।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান তারা।
এসময় শিক্ষকদের এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করেন উপাচার্যরা। একইসঙ্গে, জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ বিশেষ স্কেলের সমতূল্য করে বেতন, পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রণয়নসহ নানান দাবি তুলে ধরেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা সপ্তম বেতন কাঠামোতে যেভাবে বেতন পেতেন, তাতে নতুন কাঠামোতে তাদের আরও এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, তবে এর থেকে পেছনে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টকর।
উপাচার্যদের পদমর্যাদা বাড়ানো প্রয়োজন— এমন মন্তব্য করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, কোনো অনুষ্ঠানে গেলে তাদের বসতে দিতেও জটিলতা সৃষ্টি হয়, এতে বিব্রতবোধ করেন তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হবে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় তা বিবেচনা করে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া নতুন বেতন কাঠামোতে সচিব ও অধ্যাপকদের মধ্যে সমতা আনা দরকার বলে মনে করেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী।
এসব দাবি পূরণ না হলে শিক্ষকদের আন্দোলনে উপাচার্যদের সমর্থন থাকবে বলেও জানান তারা।
উপাচার্যদের এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে নাহিদ বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি বলেও জানান তিনি।