সমাপনী পরীক্ষার নামে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দুর্নীতি শেখানো হচ্ছে—উল্লেখ করে শিক্ষানীতিতে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার বিষয়টি না থাকলেও, কেনো এ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান।
বুধবার এডুকেশন ওয়াচের রিপোর্ট প্রকাশনা শীর্ষক অনু্ষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় সনদ দেয়ার নামে বৈষম্য দূর করতে গিয়ে আরো বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান গণস্বাক্ষরতা অভিযানের মহাপরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী
অনুষ্ঠনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ করতে হলে আগে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে। শিক্ষার মান ঠিক না থাকার জন্য শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবকেই দায়ী করেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর মতো দেশের সব থেকে বড় পাবলিক পরীক্ষা গলদে ভরা। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস, এমনকি শেষের দিকে পরীক্ষার হলে অরাজক পরিস্থিতির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোচিং, অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থও ব্যয় করতে হয় অভিভাবকদের। আর বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাসে শিক্ষাদানের চেয়ে কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েন শিক্ষকরাও। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কোন পথে ?’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সমাপনী পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণীতে। পরীক্ষার্থীদের তৈরি করার জন্য দলবদ্ধ কোচিং ও মডেল টেস্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান কর্মকাণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের প্রসারে যুক্ত হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসও। ৪০% শিক্ষার্থীই অন্যের সাহায্য নিয়ে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এমনকি পাসের হার বাড়াতে পরীক্ষার্থীর নম্বরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দেশের ১৫০টি উপজেলার ৫৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়ে এডুকেশন ওয়াচ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণস্বাক্ষরতা অভিযান।