দেশে সাক্ষরতার হার ৬১% যা গতবছর চেয়ে হার ৪% পয়েন্ট কম জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।
রোববার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা জরিপ অনুযায়ী সাক্ষরতার এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফিজার বলেন, দেশে সাত বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৫৪.১৯%, ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৫৯ . ৮২% এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৫২.৭৫% মানুষ সাক্ষর।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে সারা দেশে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতা দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা প্রতি জেলায় চারটি করে এনজিও নির্ধারণ করবেন।”
ফিজার বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমানে ৭৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই উপবৃত্তিধারীদের সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখে উন্নীত করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মেছবাহ উল আলম ছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
গতবছর সাক্ষরতা দিবসে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ সাক্ষর; আর নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ১৬. ৪৩%। ১০-১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৭.% ৩৮% সাক্ষর।
১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৮২.১৭%, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৭৫. ০৯% এবং ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭৮. ৬৩% সাক্ষর।
১৯৯৬ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এবারের আন্তর্জাতিক এ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সাক্ষরতা আর দক্ষতা, টেকসই সমাজের মূল কথা’।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান ফিজার।
২০১০ সালের পর প্রতিবছরই সাক্ষরতার হার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর সব তথ্য দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকম তথ্য দিয়েছেন।
ওই বছর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯. ৮২%। এর তিন বছরের মাথায় ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফছারুল আমীন সাক্ষরতার হার ৭১% পৌঁছেছে বলে দাবি করেন। কিন্তু তার পরের বছরই মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার দেশের ৬৫% সাক্ষর বলে তথ্য দেন।