বেতনস্কেল ও বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার আবারো পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। কর্মবিরতি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এদিকে, সোমবার কর্মবিরতি পালন করবেন ৩৩২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা দ্বিতীয়বারের মতো ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর সরকারি কলেজে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে এ নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি।
গত কয়েক দিনে এ রকম কর্মসূচি আরো পালন করেছেন শিক্ষকেরা। ভবিষ্যতেও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। নতুন বেতন স্কেলকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের এ আন্দোলনকে ঘিরে এখন প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে বছরের শেষ দিকে এসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে।
জানা গেছে, গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করা হয়নি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করলেও সে অনুযায়ী কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা।
বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান দুই জনই বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
গত কয়েক বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন হয়নি। ফলে সেখানে সেশনজট কমে একটা ধারাবাহিকতা তৈরি হচ্ছিল। এখন বেতন ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে গত মে মাস থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।