মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুলিশের বাধায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিলেও পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ ও করিডোরে প্রায় ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবক অবস্থান নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে যোগ দেয়া অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন যৌক্তিক হওয়ায় তারাও আন্দোলনে নেমেছেন।
অভিভাবকরা বলেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি জানতো মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা চাইলে পরীক্ষা বাতিল করতে পারতো। পুনরায় পরীক্ষা না নেয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সঙ্গে থাকবেন বলেও জানান তারা।
গতকাল সোমবারও একই দাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি শাহবাগ মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা পাবলিক লাইব্রেরির সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।
এরপর মিছিল নিয়ে টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। বেলা আড়াইটার দিকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রেসক্লাব এলাকা ত্যাগ করেন তারা।
ওই সময়ই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক খালেদ সাইফুল্লাহ সোমবার মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান এবং ১ অক্টোবর সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী অভিযাত্রা কর্মসূচি পালনের কথা জানান।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে একযোগে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। দেশের ১০টি জেলায় এ নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বৃহস্পতিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রংপুর থেকে তিন চিকিৎসকসহ সাতজনকে আটক করেছে।
তাদের বিরুদ্ধে এখনো সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী। এ নিয়ে টানা ১০ দিনের মতো এ বিক্ষোভ চলছে। আজও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে।