প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষার দাবি আজ রাত ১২টা মধ্যে মানা না হলে আগামীকাল সংহতি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রূীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নেতারা।
এর আগে গতকাল শাহবাগের পর কারওয়ানবাজারে আন্দোলনরত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ।
দুপুর ২টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিমুখে রওনা দিলে রাজধানীর কাওরানবাজারে তাদেরকে আটকে দেয় পুলিশ। এসময় সংঘর্ষ বেধে গেলে লাঠিচার্জ ও পিপার স্প্রে করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, আন্দোলন করে দাবি আদায় করা যাবে না উল্লেখ করে, উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ কর্মসূচিতে ঢাকা মেডিকেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পথচারীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এর আগে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন তারা।
পরে বিক্ষোভকারীরা দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভর্তিচ্ছুরা।
এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অভিভাবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত: প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতমাস থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও পুনঃপরীক্ষা নেয়া দাবি জানান তারা।
তারা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার দিন সকালে ও আগের রাতে ফেসবুকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা মিলে রয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) এ বি এম আবদুল হান্নান বলেন, পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলা যুক্তিযুক্ত নয়— পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে।