বছরের প্রথম দিন শুক্রবার হলেও পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ‘ধারাবাহিকতা’ ঠিক রাখতে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও মাধ্যমিকের ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ হবে শনিবার।
এদিকে, নতুন পাঠ্য বইয়ের মান ঠিক না রাখলে মুদ্রণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।
এছাড়া ধর্মকে ব্যবহার করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যেন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার স্কুল খোলা রাখা হলেও কোনো ক্লাস হবে না। শিক্ষকরা শুধু বই বিরতণ করবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর বলেন, নতুন বছরের শুরু ১ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি— তারপরও ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ওইদিনই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশের এক লাখ আট হাজার ৫৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে দুই কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৪২৮ জন। আর এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা চার লাখ ৮২ হাজার ৮৮৪ জন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার নতুন বছরের প্রথম দিন মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন।
এদিকে, ২ জানুয়ারি রাজধানীর সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল প্রাঙ্গণে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪ কোটি নতুন বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন।
গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বর্ণিল আয়োজনে একই স্থানে পাঠ্যপুস্তক উৎসসবের করে এলেও এবার ছোট আর বড়দের উৎসব আলাদা করা হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ২০১৫ সালের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন।