‘নতুন বইয়ের গন্ধ শুকে ফুলের মতো ফুটব, বর্ণমালার গরব নিয়ে আকাশ জুড়ে উঠব’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সকালে সারা দেশে শুরু হয়েছে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী পাচ্ছে প্রায় ৩৪ কোটি নতুন পাঠ্য বই।
নতুন বছর, নতুন বই। সীমাহীন আনন্দ আর বাধভাঙ্গা উল্লাস। নতুন বছরে নতুন বই পেয়ে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। খুশি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরাও।
এ সময় শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারি পরিবর্তন ঘটেছে এখন বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে উৎসব উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার এ উৎসবের আয়োজন করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়ানোর সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান অভিভাবকরা।
এছাড়া, দেশজুড়ে নতুন বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের স্কুলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন বই হাতে আনন্দে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা।
খুলনা নগরীর সরকারি জেলা বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। সকালে তীব্র শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নতুন বই নিতে বিদ্যালয়গুলোতে এসে ভিড় করে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ বছর নতুন বই পেয়েছে ৩৮ লাখ ৮২ হাজার শিশু।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, নাসিরাদ বালিকা বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে সকালে বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মেজবাহ উদ্দীন। নতুন বই পেয়ে ভীষণ খুশি শিক্ষার্থীরা।
বরিশালের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। বরিশালে এবার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নতুন বছরে যশোর জেলার স্কুল, মাদ্রাসার প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বই পেয়ে খুশি শির্ক্ষার্থীরা।
এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দিত গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। দিনাজপুর, নড়াইল, যশোর, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নতুন বই হাতে পেয়েছে ।
বর্তমান সরকার ২০১০ সাল ১ জানুয়ারি এই উৎসবের সূচনা করে। সেবার শিক্ষার্থী ছিল আড়াইকোটির মতো। সাত বছর পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চারকোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার। আর পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা এখন প্রায় ৩৪ কোটি।