প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে আমরা আমাদের আন্দোলন স্থগিত ষোষণা করা হচ্ছে তবে এটা প্রত্যাহার নয় বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনে করে তিনি এ বলেন।
আন্দোলন স্থগিত করা হচ্ছে তবে এটা প্রত্যাহার নয়, এই স্থগিত করাটাও আমাদের আন্দোলনের একটা অংশ বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বা কোনো কোনো কূটকৌশলের কারণে আমাদের দাবি দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে বিলম্বিত বা খণ্ডিত আকারে করার চিন্তা করা হয় তাহলে আমাদের এ কমিটি সেটা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।’
কাল থেকে আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো--এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আমরা আন্দোলন স্থগিত করছি।
তিনি আরো বলেন, আগামী মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকবো তারপর আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে ফিরে যাব।
এর আগে দাবি-দাওয়া পূরণে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই এ বৈঠকে বসেন তারা।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শিক্ষকনেতাদেরও গণভবনে পিঠা উৎসবে দাওয়াত দেন।
সেখানেই বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।
দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনরত ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যাতে গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১-এ যেতে পারেন, তার সোপান তৈরি করা হবে। অন্য দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পূরণ করা হবে।
আর শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয় তার ওপর নির্ভর করবে তাদের পদক্ষেপ এবং ক্লাসে ফিরে যাওয়া।
শিক্ষকনেতারা জানিয়েছেন, নিজেদের ফোরামে আলোচনা করে শিগগির তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন।
নতুন বেতন স্কেলে গ্রেডের সমস্যা নিরসনের দাবিতে ফেডারেশনের ডাকে ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের এক দিন আগে গত রোববার শিক্ষাসচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাবও দেন শিক্ষকেরা। এতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট অধ্যাপকের মধ্য থেকে ৫ শতাংশকে ডিস্টিঙ্গুইশড (বিশিষ্ট বা সম্মানিত) অধ্যাপক করার প্রস্তাব দেন শিক্ষকেরা। এই পদের মূল বেতন হবে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান। একই সঙ্গে আগের মতো মোট অধ্যাপকের মধ্য থেকে ২৫ শতাংশকে গ্রেড-১ করাসহ কিছু বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।