শীত-গ্রীষ্ম-ঝড়ঝঞ্চা এসব রকম প্রতিকূল পরিবেশে বারান্দাতেই থাকতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। আবাসন সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু সলিমুল্লাহ মুসলিম হলটিতেই বারান্দায় ঠাঁই হয় তাদের।
ছাত্রনেতাদের অনুগ্রহ না পেলে তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষ, এমনকি মাস্টার্সের অনেক শিক্ষার্থীকেও বারান্দায় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে হয়। হল প্রশাসনের দাবি ৮০০ ছাত্রের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ হলে প্রতিবছরই নতুন ছাত্রদের বরাদ্দ দেয়া হয়।
রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ছাত্রনেতারা নিয়ম লঙ্ঘন করে বারান্দায় ছাত্র তোলেন বলে অভিযোগ তাদের।
হলের বারান্দায় থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র হাফিজুর রহমান। হাফিজের মতো মারা না গেলেও অসুখবিসুখসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় হলটির বারান্দায় থাকা অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থীকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল এ একটি হলেই শিক্ষার্থীদের শুধু গণরুম নয়, পর্যাপ্ত সিট না থাকায় বারান্দাতেও থাকতে হয় সম্মানের অন্তত দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত। নেতাদের অনুগ্রহভাজন হতে না পারলে রুমে উঠতে পারেন না ৩য়, ৪র্থ এমনকি মাস্টার্সের অনেক ছাত্রও, বারান্দাতেই পার করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি।
শীত, গরম কিংবা ঝড়ের মধ্যে এমন অসহনীয় দুর্ভোগ সইতে হলেও নেতাদের ভয়ে বারান্দার কষ্টের কথা ক্যামেরার সামনে বলতে রাজি নয় কেউ।
তবে ছাত্রনেতাদের দাবি, প্রশাসনের ভূমিকা না থাকায় তারা নিজেরাই ছাত্রদের রুমে তোলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, সিট সংকটের দরুণ ২০০২ সাল থেকে এ হলে বারান্দায় থাকা শুরু হয়। হলের পক্ষ থেকে তাদের দেখাশোনাও করা হয়।