জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসান জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নাজিম হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকালে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামনে আগুন জ্বালিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ একারণে গুলিস্তান থেকে সদরঘাটমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার ২৭ বছর বয়সী নাজিমুদ্দিন সামাদ রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার সময় সূত্রাপুরের একরামপুরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
সে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
নাজিম ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। ফেইসবুক পাতায় তিনি নিজেকে সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি সিলেটে গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
ফেইসবুকে তার বন্ধুরা লিখেছেন, হেঁটে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন নাজিম। হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে আক্রমণ করেছিল।
ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের মতো উগ্রবাদীরাই নাজিমকে হত্যার পেছনে জড়িত বলে তার বন্ধুরা সন্দেহ করলেও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
গত ২ এপ্রিল এক পোস্টে নাজিম আওয়ামী ওলামা লীগ নিয়ে লেখেন, আওয়ামী ওলামা লীগ আর বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দুই বিপরীত মেরুর দুই বাসিন্দা। ওলামা লীগ কখনোই বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চায়নি এবং চাইবে না।
একদিন আগেই এক মাওলানার ‘নারীবিদ্বেষী’ ওয়াজের ভিডিও শেয়ার করে তার সমালোচনাও করেছিলেন নাজিম।
নাজিম জগন্নাথে আইন বিভাগে এলএলএম কোর্সে ভর্তির আগে আগে সিলেটের বেসরকারি লিডিং ইউনির্ভাসিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন।
জগন্নাথে এলএলএম কোর্সে ভর্তির আগে সিলেটের বেসরকারি লিডিং ইউনির্ভাসিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন নাজিম।