ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হেনস্থা করার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনরোষ থেকে বাঁচাতেই শিক্ষককে হেনস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
তবে ধর্মীয় অবমাননার বিষয়টি স্কুলের শিক্ষকদের কেউই আগে থেকে জানতেন না বলে জানিয়েছেন তারা। আর বহিরাগতরা মাইকে এ ঘোষণা দেয় বলে দাবি করেছেন মসজিদের ইমাম।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে শুক্রবার সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়। সেদিন ছিল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নিয়মিত সভা।
সভায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতকে ক্লাসে মারধর করার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবদ করা হচ্ছিল। এরমধ্যেই স্কুলের সামনের একটি মসজিদে ঘোষণা করা হয় প্রধান শিক্ষক ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছে।
পরে এলাকাবাসিকে স্কুলমাঠে জড়ো হওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় এলাকাবাসিও স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করে এবং অবরূদ্ধ করে। এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ডাকা হয়।
তার উপস্থিতিতে শিক্ষককে সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। সেখান থেকে প্রধান শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সেলিম ওসমান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফোনে তিনি বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচাতেই শিক্ষককে শাস্তি দেয়া হয়।
আর শিক্ষকের অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে এবং হেনস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মীয় অবমাননার ব্যাপারটি শিক্ষকরা মসজিদের মাইকে শেনেছেন। আগে থেকে কেউ ব্যাপারটি জানতেন না। মসজিদের ইমামের দাবি, বাইরের কয়েকজন লোক মসজিদের মাইকে এ ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সন্ধ্যায় দেখা করবে নারায়ণগঞ্জের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার শাহবাগে সমাবেশের ডাক দিয়েছে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।