নারায়ণগঞ্জের লাঞ্ছিত স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র আদায় করে পরিচালনা পর্ষদ তাতে সই নিয়েছিল বলে আদালতকে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলার পিয়ার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধন শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল সেই শিক্ষার্থীও ‘একেক সময় একেক কথা বলেছে’।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যে প্রক্রিয়ায় শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল তা বিধি বহির্ভূত হওয়ায় ওই শিক্ষককে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, চার দফা সুপারিশসহ কমিটির ওই প্রতিবেদন হাতে এসেছে— হলফনামা করে প্রতিবেদন আকারে তা আদালতে জমা দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত: গত ১৩ মে (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলের সামনের একটি মসজিদ থেকে হঠাৎ করেই মাইকে ঘোষণা করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন এবং সেখান থেকে এলাকাবাসীকে স্কুলমাঠে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দলে দলে স্কুলে আসেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা স্কুলের দরজা ভেঙে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে এবং তাকে অবরুদ্ধ করেন।
পরে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। সংসদ সদস্য উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠ-বস করার শাস্তি দেন।
কান ধরে ওঠ-বসের পর সমবেত জনতার কাছে করজোড়ে মাফ চাইতেও বাধ্য করা হয় ওই প্রধান শিক্ষককে। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে পুলিশের হেফাজতে স্কুল থেকে বের করা হয়। এর পর পুলিশ চিকিৎসার জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে, হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আগামী তিন দিনের মধ্যে জানাতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে।
শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করেছে।
এতে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন বলে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতে কমিটি তাকে স্বপদে বহালের সুপারিশ করেছে। তদন্ত কমিটি স্কুলের আগের কমিটি বাতিলের সুপারিশ করে। পরে তাকে কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে স্বপদে বহাল করে স্কুল কমিটি বাতিল করে।