বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানো যাবে সর্বোচ্চ ৩০%— এ নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) এ.কে.এম. জাকির হোসেন ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানোনো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অস্বাভাবিক বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধি করে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় আর্থিক চাহিদা নিরূপণ করে শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বিদ্যমান হারে ফি আদায় করা হলে তার মোট হিসাব প্রদর্শনপূর্বক ঘাটতি/উদ্ধৃত্ত (যদি থাকে) নির্ধারণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বর্ধিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নির্ধারণ করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন সর্বোচ্চ ৩০% বেশি বাড়ানো যাবে না।
এছাড়া সংস্থাপন ব্যয় বাবদ ভর্তি নীতিমালায় বর্ণিত সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।
তবে শুধু ঘাটতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ উক্ত ঘাটতি মিটানোর জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট হতে প্রয়োজনীয় অর্থ ভর্তি ফি ও টিউশন ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে আহরণের প্রস্তাব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশসহ অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট দাখিল করবেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে তা যথাযথ প্রতীয়মান হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)— এর নিকট উপস্থাপন করবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) অনুমোদন করলে বিদ্যালয় ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আরো বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা জনবল কাঠামো অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো শ্রেণি শাখা বৃদ্ধি করা যাবে না। শ্রেণি শাখার অনুমোদন না থাকলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বৈধ হবে না।
অনুমোদন ছাড়া নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট কোনো বেতন বা ফি আদায় করা যাবে না। শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতাদি জনবল কাঠামোতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি বেতন ভাতার অংশের বাইরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাতা প্রদানে ইচ্ছুক হলে তার পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন, একজন শিক্ষকের মোট প্রাপ্তি কোনোভাবেই একই স্কেলভুক্ত সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মোট প্রাপ্তির বেশি না হয়।
একজন নন-এমপিও শিক্ষকের বেতন ভাতার মোট পরিমাণ কোনভাবেই সমস্কেলের একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতনের চেয়ে বেশি হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের নতুন বেতন স্কেল প্রবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেসরকারি এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি) বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধির হিরিক পরে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্তি ফি নেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ফি নেয়া বন্ধে পরিপত্র জারি করে। আর ফি বৃদ্ধির বিষয়ে পরিপত্র জারির কথা বলে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিপত্র জারি করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়।