রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৪) সন্দেহভাজন খুনী ওবায়দুল খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস পর আন্দোলন স্থগিত করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মোড় অবরোধ করে রিশা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ সময় রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সড়কে আন্দোলন না করার আহ্বান জানান।
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, এতদিন আমাদের শুধু রিশার খুনির নাম ছিল–এখন তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা এবং ছবি পাওয়া গেছে এজন্য তাকে গ্রেপ্তার সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।
রিশা হত্যার প্রতিবাদে আগামী ৩১ আগস্ট দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানববন্ধন ও শোকসভার করার আহবান জানানো হয় আন্দোলন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে।
সকালে রাজধানীর কাকরাইলে তিন দিন আগে বখাটে যুবকের ছুরিতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যার ঘাতকের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতকের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রিশা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জানা গেছে, চৌদ্দ বছর বয়সী সুরাইয়া আক্তার রিশা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবার নাম রমজান, বাসা পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে।
গত বুধবার দুপুরে স্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজের উপরে রিশার পেট ও হাতে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় এক ‘বখাটে যুবক’।
রিশার মা তানিয়া বেগম বলেন, কয়েক মাস আগে ইস্টার্ন মল্লিকার বৈশাখী টেইলার্সে একটি জামা বানাতে দিয়েছিলেন তিনি—যোগাযোগের জন্য সেখানে নিজের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন।
ওবায়েদ নামে ওই দোকানের এক কর্মচারী ফোন করে রিশাকে বিরক্ত করছিল—এ কারণে রিশার মা ওই মোবাইল সিমটি বন্ধ করে দেন। তার ধারণা ওবায়েদই রিশাকে ছুরি মেরেছে।
রিশার মা বুধবারই ওবায়েদকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।
পরে ওই টেইলার্সে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওবায়েদ দুই মাস আগে চাকরি ছেড়ে সেখান থেকে চলে গেছেন—পুলিশ বৈশাখী টেইলার্সের চার কর্মচারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ওবায়েদকে এখনও আটক করা যায়নি জানান উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।