অনিয়ম এড়াতেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে মৌখিকের সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে- জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
তবে এ নিয়মের প্রয়োগের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দেয়ার পক্ষপাতী বিশ্লেষকরা।
তারা বলেন, যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত তাই এ ধরনের নিয়ম চালুর এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরই থাকা উচিত। সেইসঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ণেরও তাগিদ দেন তারা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়াগে মৌখিকের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা ও নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে দু'টি সুপারিশও করা হয়েছে এতে। বলা হয়েছে - পুলিশ ভেরিফিকেশন না থাকায় সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তি বা অপরাধে জড়িতরাও নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। আর শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার কারণে অনিয়মের সুযোগও তৈরি হয়।
তবে এ নিয়ম বাধ্যতামূলক না করে, প্রয়োজন অনুযায়ী এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখার পক্ষে বিশ্লেষকরা।
সেইসঙ্গে তারা শিক্ষক নিয়োগে সমন্বিত নীতিমালা প্রনয়ণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তারা।
তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষকরা যাতে উৎপীড়নের শিকার না হন, সে ব্যাপারেও সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ তাদের।
ওই অনুষ্ঠানে দেশের ও শিক্ষার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে—এ মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বৃহস্পতিবার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিইইআইসিটি- ২০১৬)’ শীর্ষক এই সম্মেলন এমআইএসটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় তত্ত্ব-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে শিক্ষক নিয়োগ দিলে নবনিযুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন।
নাহিদ বলেন, এখন থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পন্ন জনসম্পদ বিদেশ থেকে আমদানি নয়, এদেশের মানবসম্পদ বিদেশে রপ্তানি করা হবে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্থান করে নিতে হবে- এ কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তি চর্চা ও প্রয়োগ আয়ত্ব করার উপর নজরদারি করা। যাতে তারা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে আরও সক্ষমতার দিকে পৌঁছে দিতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজী (আইসিইইআইসিটি- ২০১৬) শীর্ষক এই সম্মেলন এমএসটিআই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ মাহফুজুর রহমান ।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমএসটিআই এর কম্যান্ডেন্ট’র (ভারপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালজার হোসেন, আইইইই কমসোক সভাপতি (বাংলাদেশ) প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এবং এমআইএসটি এর ইসিই ফ্যাকাল্টির ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহাইল হোসাইন।
[এ সম্মেলনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ্যান্ড সিকিউরিটি কমিউনিকেশন, ডিজিটাল সিগনাল অ্যান্ড ইমেজ প্রসেসিং, অপটো- ইলেকট্রনিক্স এ্যান্ড ইমেজ প্রসেসিং, অপটো ইলেকট্রনিক্স এ্যান্ড ফটোনিস্কসহ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্প-উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের সমন্বয়ে একটি সার্বজনীন ক্ষেত্র তৈরী হবে যা ইলেকটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নব ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, জার্মানি এবং নেপালের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করছেন।
এর পরে শিক্ষামন্ত্রী সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত প্রদশর্নীর উদ্বোধন করেন। সূত্র বাসস।