ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। একইসঙ্গে এরজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি তাদের।
শনিবার দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, ভুল পাঠ্যবই ছাপার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফলতি যেমন অন্যতম কারণ, তেমনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যও শিক্ষাখাতে এই মৌলবাদ সম্পৃক্ত করার প্রয়াস। এথেকে সরে না আসলে আগামী প্রজন্ম মৌলবাদী মনোভাব নিয়েই বড় হবে-এমন আশঙ্কাও তাদের।
এবার মাধ্যমিক, প্রাথমিক দুই স্তরের পাঠ্যবইয়েই ভুল, অসম্পূর্ণ, বিকৃত তথ্য ও বিতর্কিত বিষয় স্থান পেয়েছে। এরই মধ্যে ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের গাফলতি আর নীতি নির্ধারকদের ইঙ্গিতেই এবার পাঠ্যবইয়ে বিকৃত তথ্য আর গল্প, কবিতায় ভুল ছাপা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রদায়িকীকরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অসাম্প্রদায়িক একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবিতে ৫২, একাত্তরে আন্দোলন করেছেন। একই দাবিতে ৪৫ বছর পরেও রাজপথে নামতে হওয়ায় তারা হতাশ।
আর সরকারের ভেতরে থাকা মৌলবাদী শক্তির নির্দেশেই পাঠ্যবইয়ে আমুল পরিবর্তন এবং মৌলবাদী চিন্তা-ভাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইতিহাসবিদ ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন। অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনে পাঠ্যবইয়ের ভুল দ্রুত সংশোধনের তাগিদও দেন তিনি।
আর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলেই করনীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।