আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহারের পাশাপাশি বাদ পড়া গল্প-কবিতা সম্পৃক্ত করে নতুন পাঠ্যবই ছাপানোর দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল কয়েকটি সংগঠন।
রোববার সকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ৩১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সারাদেশের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ার দেয়া হয়েছে।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টায় মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সামনে জড়ো হতে থাকেন প্রতিবাদী বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই প্রত্যাহারের দাবিতে উদীচি ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মসূচিতে সংহতি জানায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন।
স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পাঠ্য বইয়ে এমন ভুল তারা মেনে নিতে পারছেন না বক্তারা।
তারা বলেন, সরকার আগামী প্রজন্মকে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের পথে যাওয়ার জন্য শিক্ষাখাত বেছে নিয়েছে।
বক্তারা হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা যেসব দাবি করেছিল সরকার সেভাবেই পাঠ্য বইয়ে পরিবর্তন এনেছে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ।
এরই অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হুমায়ুন আজাদের গল্প-কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে।
সমাবেশে বক্তৃতায় তারা অবিলম্বে ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহার করে বাদপড়া সব প্রগতিশীল লেখকের গল্প কবিতা সম্পৃক্ত করা এবং দোষী কর্মকর্তাদের অপসারণ করে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সমাবেশ থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধনের উদ্যোগ না নিলে ৩১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি দেয়া হয়। একই সঙ্গে সারাদেশের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও একই কর্মসূচি পালন করার কথা জানান বক্তারা।