সম্পাদকদের না জানিয়েই পাঠ্যবই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্পাদকরা দাবি করেছেন তাদের অজ্ঞাতেই পাঠ্যবইয়ে এ পরিবর্তন। ভুলে ভরা পাঠ্যবই নিয়ে দেশে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে শিগগিরই বিবৃতি দেবেন বলে সম্পাদকরা জানিয়েছেন।
নিয়মানুযায়ী পাঠ্য বইয়ের বানান, যতিচিহ্ন এবং বিরামচিহ্নের মতো ছোটখাটো ভুলের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবির বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু কোনো লেখা বাদ দেয়া বা যুক্ত করার জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম সমন্বয় কমিটির অনুমোদনের পাশাপাশি সম্পাদকের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।
কিন্তু চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তা বইয়ের সম্পাদক, রচয়িতা আর সংকলকদের না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা।
প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা বইয়ের মোট ২৩ জন সম্পাদক ও সংকলকদের অর্ধেকই বলেছেন পরিবর্তনের বিষয়টি তারা জানতেন না।
ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে সম্পাদক, রচয়িতা এবং সংকলক আছেন ১০জন। তাদের অন্যতম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবুল হক।
তিনি জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের পর থেকে পাঠ্যবই সংশোধন বা পরিমার্জনের কোনো বিষয় তাকে জানানো হয়নি।
একই কথা বলেছেন আরেক সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।
তিনি বলেন, যুক্ত না থাকলেও প্রত্যক্ষ দৃষ্টিতে পাঠ্যবইয়ে ভুলের বিষয়টি সম্পাদক, সংকলকদের ওপরও বর্তায়। তবে এবার বই পরিবর্তন কিংবা পরিমার্জনের ক্ষেত্রে তাদের মতামত নেয়া হয়নি। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে শিগগিরই নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করতে চান তারা।
তবে সম্পাদকদের এই বক্তব্য লেখক ও শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মানতে নারাজ।
সম্পাদক, সংকলক এ বিষয়ে জানেন না তা হতে পারে না বলে মত দেন তারা।
বিষয়টির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের তাগিদ শিক্ষাবীদ মুনতাসির মামুন।
।