নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাসের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরতরা।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানী প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনরতদের তিনি এ আশ্বাস দেন।
সকাল ১১টায় অনশন ভাঙাতে প্রেসক্লাবে যান শিক্ষামন্ত্রী—এ সময় তার এ আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষক এবং কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
ওই সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত করে দেয়া হবে, আশা করছি আপনারা আর কষ্ট করবেন না।
তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া দেয়া এ আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে স্লোগান দেন তারা।
ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে বক্তব্য দেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া তারা কোনো কিছুই মানবেন না—প্রধানমন্ত্রীর বার্তা না নিয়ে তারা বাড়ি ফিরবেন না, অনশন চলবে।
পরে গত রোববার থেকে তারা একই দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে স্বীকৃতপ্রাপ্ত সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থার কর্মসূচি পালন করেছেন।
প্রসঙ্গত: সরকার স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতেই এ আন্দোলন।
স্বীকৃতি পেলেও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। সারাদেশে এমন নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি।
এসব শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৪ লাখের বেশি। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়।