প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষক, শিক্ষাবিদসহ সকলের পরামর্শ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্টের দেয়া প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
তিনি বলেন, সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই এটা রোধ করা সম্ভব।
প্রযুক্তির ব্যবহার সাময়িক বন্ধ করে বা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও অভিমত তার এজন্য তার পরামর্শ হচ্ছে- প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্নফাঁস রোধে ইন্টারনেট ও পরীক্ষার আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ করা, পুরস্কার ঘোষণা, কেন্দ্রে কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে প্রবেশে বাধ্য করা, পরীক্ষা বাতিলসহ নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও কোনোভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছে না।
গত বছরের মতো এবারো ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসির প্রতিটি পরীক্ষার সকালে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ, মেসেঞ্জার গ্রুপ ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্ন।
এরইমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কয়েকটি চক্রকেও গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি, প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা-পিএসসি পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁস ব্যাপক আকার ধারণ করে।
ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের বিজ্ঞাপন চালানোসহ আধুনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষায় জালিয়াতির কথাও স্বীকার করেছেন অনেকে।
গতকাল বর্তমান পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস রোধে অপারগতাও প্রকাশ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে প্রশাসনিক ও বিচারিক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় উচ্চ আদালত।
প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান, বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ কমিটির প্রাথমিক কার্যক্রমের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন
তিনি জানান- সার্বিক সমন্বয় ছাড়া প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব না।
শিক্ষামন্ত্রী বা সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন পদত্যাগ করলেই এর সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করে তিনি বলেন, এটা রোধ করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
নতুন কিছু পদ্ধিতির কথা তুলে ধরে প্রশ্নফাঁস রোধেও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর জোর দেন বুয়েটের কম্পিউটার বিভাগের এই অধ্যাপক।