কোটা সংস্কারের দাবি শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো, আক্তারুজ্জমান।
বুধবার উপাচার্য কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবারো এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, এরইমধ্যে সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ মে’র মধ্যে বিষয়টি দেখা হবে। তবে বেশি সময় না নিয়ে সহসাই এটা করা উচিত।
তাদের এ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসন সবাই একমত জানান তিনি।
কোনো ভুল বোঝার অবকাশ নেই যে তাদের এ যৌক্তিক আন্দোলনে ঢাবি দূরে সরে থাকবে –এ কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, যতদ্রুত সম্ভব এ বিষয়টা সমাধান করা তাহলে সবপক্ষেই ভালো হবে।
উপাচার্য বলেন, ‘আমি এ দাবিকে যৌক্তিক দাবি বলে মনে করি। যত দ্রুত এই দাবি পূরণ করে কোটা সংস্কার করা যাবে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশান্তি ফিরে আসবে।’
আগামী৭ মে যেহেতু সংস্কারের কথা বলাই হয়েছে, সেজন্য যত দ্রুত সংস্কার করা হবে ততই ভাল। এটি একটি যৌক্তিক দাবি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসন আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা সঠিক নয়। কোটা সংস্কার এমনই একটি যৌক্তিক দাবি, যার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্ণ সহমত পোষণ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বুধবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক শিবলী রুবাইতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক সমিতি মনে করে, এই কোটা সংস্কার এখন ‘যুগের চাহিদা’।
সে অনুযায়ী কোটা সংস্কার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে ঘোষণা করার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে কোনোরূপ পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রোববারের সংঘর্ষের সময় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে।