কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার পরেও সরকারের নিরবতা প্রমাণ করে যে দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই— এমন অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানবন্ধনে শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।
মানবন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, একের পর এক হামলার ঘটনা মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারহরণ ছাড়া আর কিছু নয়। সরকারের নিস্ক্রিয়তার কারণেই এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব ঘটনার যদি যথাযথ প্রতিবাদ করা না হয় তাহলে তা প্রতিরোধ করা যাবে না।
এছাড়াও কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী ও শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতির সংস্কার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে সাভার ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি রেজিস্টার ভবন ঘুরে পুরানো কলা ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
সেখানে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আটকের ঘটনায় জানানো হয় তীব্র নিন্দা।
এছাড়া একই দাবিতে খুলনা নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক পুলিশি হেনস্থার শিকার হন।
এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।