উচ্চ আদালতের রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা বহাল থাকবে বলা হলেও এটি সংস্কার করা যাবে না এমন কোনো কথা নেই-- এমন অভিমত আইনজ্ঞদের।
তারা বলেন, বিদ্যমান কোটা রাখা হবে— না পরিবর্তন করা হবে সেটি সর্ম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ার। এ বিষয়ে আদালতের রায় কোনো বাধা হবে না। তবে, রায়টি রিভিউ করে এর মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হলে ভাল হয় বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা এবং কোটা ব্যবহারের প্রশ্নে বেশ কিছু অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন জামাল উদ্দিন শিকদার নামের একজন। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশরা দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয় উচ্চ আদালত। রায়ে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে পাশাপাশি কোনো ক্ষেত্রে যদি কোটা পূরণ করা সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে পদ খালি রাখতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে রায়ের বিষয়টি উঠে আসে।
তিনি জানান, কোটার বিষয়ে উচ্চ আদালতে রায় থাকার কারণে এটি সংস্কার করতে গেলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।
এদিকে, উচ্চ আদালতের রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য যে কোটা রয়েছে তা অনুসরণ করতে বলা হলেও সেটি সংস্কার করা যাবে না এমন কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।
তবে, বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে বলে অভিমত দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম।