রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনের মত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কমার্স কলেজসহ আশপাশের বেশ কিছু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মিরপুর ১ নম্বর গোল চত্বরের রাস্তায় অবস্থান নেয়। সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা ওই পথে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এ সময় মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর গোলচত্বর, কাজীপাড়া এবং ১১ নম্বর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়া রাজধানীর সাইন্সল্যাবটরি মোড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে আরও শিক্ষার্থী গিয়ে এ বিক্ষোভে যোগ দেয়।
এছাড়া সকাল ১০টায় ফার্মগেট সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে বিজ্ঞান কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থীরা হাতিরঝিল সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে। এছাড়াও ঢাকা সিটি কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। কোথাও কোথাও গাড়ি ভাঙচুরও ও বাসে আগুন দেয়।
পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরো রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অবস্থান নেন। তারা শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অনেক অভিভাবককে শিশুকে স্কুলে না দিয়ে বাসায় ফিরে যেতে দেখা গেছে। আশপাশের দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়। পুরো রাজধানীতে উত্তেজনা ও থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে, শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনের সামনে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
এছাড়াও ফার্মগেটে বাবুল টাওয়ারের সামনে স্থানীয় কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মিরপুর কালশী রোড থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মোড়ে মোড়ে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী এবং গাবতলী থেকে গুলশান নতুন বাজার পর্যন্ত এ সব রোডে বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। বাস বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
অবরোধে শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া বাসচাপায় নিহত সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়ক অবরোধ করে তারা 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' বলে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অবস্থান করেন।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করে মড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
এছাড়া নিজের দেয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।