ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে ও পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ। ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্টে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যান শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয়েছে— অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা শুনেছি কেউ অপরাধী হলে অবশ্যই শাস্তি পাবে বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? যে ঘটনাগুলো আমরা শুনছি, এর পেছনের কথা শুনছি, ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, তার মেয়ের পরীক্ষা চলছিল। রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পায়। মোবাইলে নকল করছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার বাবা-মাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।
দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করেন, তিনি স্ত্রী ও অরিত্রীকে নিয়ে স্কুলে যান। তার ছোট মেয়েও একই স্কুলে পড়ে। তারা প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের ‘অপমান’ করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতেও বলা হয়। দিলীপ অধিকারী বলেন, এরপর তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। যেখানে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যও ছিলেন। প্রিন্সিপালও ভাইস প্রিন্সিপালের মতো আচরণ করেন।
দিলীপ অধিকারী বলেন, এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্ত্রীসহ তিনি বাড়ি গিয়ে দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে। অরিত্রীকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তারা। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়।
এর আগে সহপাঠীর আত্মহত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসকে অভিযুক্ত করে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরাও।
প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার পৃথক কমিটিগুলো গঠন করেছে।