ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
তারা -অবিলম্বে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও উপধক্ষের পদত্যাগের দাবি করেছেন। অনেক শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করেছে।
মঙ্গলবার সকালে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন- এ ঘটনায় দু'টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরে স্কুলের প্রভাতী শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিনাত আক্তারকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
এদিকে, এক রিট আবেদনের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠনের আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ঘটনার তদন্তে ও পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন ও একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ। ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্টে।
বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।
এ কমিটিতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের নিচে নয় এমন একজন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, মনোবিদ ও আইনবিদকে রাখতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সকালে আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, জেসমিন সুলতানা।
নিষেধ থাকা সত্ত্বেও গত রোববার পরীক্ষা হলে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের ৯বম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। মোবাইলটি দেখতে পেয়ে শিক্ষকরা তা জব্দ করে এবং তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। পরদিন সোমবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। উপধক্ষের কাছে ওই শিক্ষার্থী বাবা-মা ক্ষমা চাওয়ার পরও তাদের অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
সেখানেও তারা ক্ষমা চান। তবে অধ্যক্ষ তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং অরিত্রীকে ছাড়পত্র দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন।
গতকাল-সোমবার রাজধানীর শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রী।
এ ঘটনায় আজ- মঙ্গলবার সকালে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
তারা এ সময় ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও উপাধক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন।
তারা বলেন- আর যাতে কোন বাবা মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।
অরিত্রীর সহপাঠি শিক্ষার্থীরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই ধরনের অমানবিক ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন তারা।
এদিকে, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় নীতি প্রণয়নে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।