দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
আদালতের নির্দেশে মার্চের মধ্যেই এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন।
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠনের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা মনে করছেন এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের সমাধানসহ সাধারণ ছাত্রদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের পথ সুগম হবে। তেমনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের পরিবেশ তৈরি হবে। কমবে প্রশাসনের একচ্ছত্র আধিপত্য। সব ছাত্রসংগঠনের সহ অবস্থান ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন বাম ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। তবে ২৮ বছর পর চলতি বছরের মার্চের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। উচ্চ আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী এ বছরের মার্চের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে ১০ জানুয়ারি মতবিনিময় সভা করে। গঠনতন্ত্র পরিমার্জন ও সংশোধনের জন্য গঠিত হয়েছে ৫ সদস্যের কমিটি।
ডাকসু নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতা সবার আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা এর মাধ্যমে তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হবে।
ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগকে ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনও স্বাগত জানিয়েছেন।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রদের দাবি আদায়ের পাশাপাশি গণতন্ত্রের চর্চা হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সেই সঙ্গে প্রশাসনের একছত্র আধিপত্যও কমবে বলে মনে করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।
বাম ছাত্র সংগঠনগুলোও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বেশ আশাবাদী। অন্যানদের মতো তারাও সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব হলে সহাবস্থান নিশ্চিত ও ক্যাম্পাস রাজনীতির সমান সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছে তারা।