অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যে দিয়ে জমে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা।
বাম ছাত্রসংগঠনগুলো আচরণবিধি ও গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের জন্য যেমন আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে অপর দিকে নির্বাচন পেছানোর দাবি মানা না হলে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে নিজেদের অনিশ্চয়তার কথা বলছেন ছাত্রদল নেতারা।
পরাজয়ের ভয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের।
আর নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে মুখর হয়ে উঠেছে।
এখন নিয়মিতই ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো সংবাদ সম্মেলনসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে।
প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নির্বাচন উপলক্ষে জোটবদ্ধ আন্দোলন ও ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
গত কয়েকদিনের মতো ছাত্রদলও অবস্থান নেয় মধুন ক্যান্টিনে।
নির্বাচন পেছানোসহ নিজেদের সাত দফা দাবির বিষয়ে অনড় রয়েছেন উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতারা বলেন, দাবি মানা না হলে নির্বাচন অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তাদের।
স্থিতিশীল সহাবস্থানের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রতিনিধি নির্বাচন করার কথা বলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে তৃতীয় দিনের মতো নেতাকর্মীদের নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে আসেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী।
আকরামুল হাসান বলেন, আমরা চাই একটা স্থিতিশীল সহাবস্থান। আমাদের যারা হলের বাহিরে আছেন তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, সামগ্রিকভাবে যখন সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি আমাদের যে দাবি, ভোটকেন্দ্র হলের বাহিরে দেয়া, নির্বাচনের যে কমিটি সেগুলোতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এছাড়াও নির্বাচন ৩ মাস পেছানোর যে দাবি করেছি তার কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে, সহাবস্থান নিশ্চিত করে ডাকসু নির্বাচন হোক।
তবে, ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।
নির্বাচন পেছানোর কোনো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে না থাকায় এটি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাসদ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থানে কথা তুলে ধরেন।