ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রথম দিনে ছাত্রসংগঠনগুলোর উপস্থিতি একেবারেই ছিলো না।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ কেউ মনোয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জোটগঠন প্রক্রিয়ারত থাকা, ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনের আচরণবিধির কিছু বিষয়ে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি।
ঢাবির শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোসহ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক সংগঠনগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে আলোচনা চলছে।
তবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও দাবি আদায়ের বিষয়টির ওপর এখনো জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানান ছাত্রদলসহ বাম সংগঠনগুলোর নেতারা।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিতরণ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বিকেল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার সংখ্যা ছিল কম।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।
প্রথম দিন হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পরিমাণ কম হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন পেছানোসহ নিজেদের ৭ দফা দাবির বিষয়ে পুনরায় জানাতে উপাচার্যের কার্যালয়ে আসেন ছাত্রদল নেতারা।
ছাত্রদলের ঢাবির শাখার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী।
স্থিতিশীল সহাবস্থানের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনের প্রতিনিধি নির্বাচন করার কথা বলেন তারা।
আকরামুল হাসান বলেন, আমরা চাই একটা স্থিতিশীল সহাবস্থান। আমাদের যারা হলের বাহিরে আছেন তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, সামগ্রিকভাবে যখন সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি আমাদের যে দাবি, ভোটকেন্দ্র হলের বাহিরে দেয়া, নির্বাচনের যে কমিটি সেগুলোতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এছাড়াও নির্বাচন ৩ মাস পেছানোর যে দাবি করেছি তার কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে, সহাবস্থান নিশ্চিত করে ডাকসু নির্বাচন হোক।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার থেকে দাবি আদায়ের বিষয়েই বেশি মনোযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
তবে, ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন, প্যানেল তৈরির বিষয়ে তাদের জোর প্রস্তুতি চলছে— নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হবে।
আর ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনের আচরণবিধির কিছু বিষয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে আন্দোলন চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনে জোট তৈরিতে নিজেদের ব্যস্ততার কথা জানালেন বাম ছাত্রসংগঠনগুলো।
এদিকে, হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের সমর্থনের কথা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে সম্মিলিত বাস রুট নামের একটি সংগঠন।