ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যালট ও ব্যালট বাক্স রোববার রাতেই হলগুলোতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ উপাচার্যের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
দীর্ঘ ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে কাল-সোমবার হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল নির্বাচন— সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
আজ-রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সাতটি স্পটে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেদিয়ে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোনো সংগঠনই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি।
আগামীকাল -সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
এবার মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৬ জন। ডাকসুতে ২৫টি পদের জন্য লড়ছেন ২২৯ প্রার্থী। আর ১৮টি আবাসিক হলে মোট প্রার্থী ৫০৯। একেকটি হলে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ডাকসুতে প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মুক্তিজোট, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচন ও ডাকসু নির্বাচনের কর্মকর্তা আবদুল বাছির বলেন, কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট ও ব্যালট বাক্স পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রাতে না পাঠিয়ে ভোটের আগে সোমবার সকালে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠানোর জন্য উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়েছে বাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এ কর্মকর্তা বলেন, সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, হল কর্তৃপক্ষেরও কিছু কাজ আছে এজন্য তাদের সময় দিতে হবে। তাই ব্যালট ও ব্যালট বাক্স আগে পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে প্রার্থীরা আস্থা পাচ্ছেন না— এ বিষয়ে জানতে চাইল আবদুল বাছির বলেন, সে জন্য তো তোমরা আছোই সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন। তোমরা তোমাদের রিপোর্ট করবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে স্টিলের ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। এই অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, সিনেট কমিটি, সিন্ডিকেট, রেজিস্ট্রার গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনে এই ব্যালট বাক্সগুলোই ব্যবহার করা হয়। এখন পর্যন্ত তো কেউ প্রশ্ন তোলেনি।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটের গ্রহণের সময় চার ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা, তথ্য সংগ্রহে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য অবাধ সুযোগ, ভোটকেন্দ্রে আসতে ভোটারদের নিরুৎসাহিতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের অনুমতি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দেওয়া, ভোটের দিন সকালের আগে ব্যালট কেন্দ্রে না পাঠানো এবং প্রতিটি রুটে সকাল থেকে ন্যূনতম ১০টি বাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে তারা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। উপাচার্য তাদের কথাগুলো শুনেছেন, তবে কোনো আশ্বাস দেননি।
গতকাল শনিবার নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।