ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য সরকারের কাছে প্রায় ৪৫ কোটি বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রোববার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব আহমেদকে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম চলতি অর্থবছরে ডিসিসি নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ কোটি টাকা সংস্থান রাখার অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ জটিলতা শেষ হলে ভোট অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি রাখা হবে।
ইসি সচিব অর্থবিভাগের সচিবকে চিঠিতে জানিয়েছেন, সরকার সীমানা নির্ধারণ জটিলতা নিরসন করলে চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অর্থবিভাগের সচিবের কাছে দেয়া ইসি সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে ঊচ্চ আদালতের রিট পিটিশন দাখিল হয় এবং বিজ্ঞ ঊচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গত বছরের ১৩ মে আদালত রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানা জটিলতার কারণে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
এ সিটি নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্বাচন ব্যয় খাতে সংস্থানকৃত ৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আরো ৪৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট ৯৫ কোটি টাকা সংস্থান রাখার অনুরোধও করেন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ডিসিসি নির্বাচনের জন্যে আলাদা বরাদ্দের দরকার নেই বলে আগে বলা হয়েছিল। যখনই ইসির দরকার হবে, তখনই চাইলে দেয়ার কথা রয়েছে অর্থবিভাগের।
বিগত ২০০২ সালের এপ্রিলে ভোটের পর ২০০৭ সালের মে মাসে অবিভক্ত ডিসিসির নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়।
এরপর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় দুই বার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
এরপর ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ ও ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর নামে দুই ভাগ হয় ডিসিসি।
দুই ভাগ করার পর অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে চলছে ডিসিসি, যদিও স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল।