ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটকেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও সহিংসতার কারণে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।
তিন সিটি করপোরেশনের ৬১৯টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা উত্তরের ২০৫টি, দক্ষিণের ১৩৮টি ও চট্টগ্রাম সিটির ২০টি কেন্দ্রে সহিংসতা এবং অনিয়ম হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনই নির্বাচনের দিন সহিংসতা ঘটিয়েছে বলেও এতে দাবি করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিয়ম আর সহিংসতার আঁচ লাগতে থাকে বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রে। আর এসব নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে দুপুর ১২টার কিছু সময় পরই ভোট বর্জনের ঘোষণা আসে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে।
আর ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলা ঘোষণা করে কমিশন।
তবে নির্বাচনের ঠিক এক দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে প্রাথমিকভাবে এক প্রতিবেদন তুলে ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সিটির ২৭০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় ১০২টিতে, জোর পূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটে ১৩৮টিতে, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬৪টিতে, ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকে ৫৮টি এবং পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় ৮৮টি কেন্দ্র থেকে।
সেইসঙ্গে ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষকদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি অভিযোগ করে তারা বলেন, নির্বাচনী ফলাফলকে পরিবর্তন করতেই এসব অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা।
ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান মঞ্জু বলেন, ‘স্থানীয়দের শক্তির কাছে অনেক পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি।’
ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে সকল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে তা নির্বাচনের ফলাফলকে পরিবর্তনের জন্যই করা হয়েছে। এ সকল প্রতিটি ঘটনায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, শিক্ষিত পর্যবেক্ষক, প্রার্থীর এজেন্ট ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী যারা ছিলেন তাদের কেই এ ধরনের কাজ করতে দেখা গেছে।’
নির্বাচনে অপ্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিনষ্ট হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কিমুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে সংগঠিত অপকর্ম ও অনিয়মের কারণে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিশ্বাস যোগ্য মনে করে না।’