নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যর্থতার কারণেই মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা সংক্রান্ত-এসইএমবি প্রকল্প গুটিয়ে নিয়েছে ইউএনডিপি বলে জানিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাতাদের অনাস্থাও এর অন্যতম কারণ বলেও মনে করছেন তিনি।
দেশটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়াদ শেষের আগেই প্রকল্প গুটিয়ে নেয়ায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে— এ কথা উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কমিশনের ব্যর্থতার কারণেই দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।
কমিশের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা না থাকায় দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বলেও জানান সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার।
তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দাতাদের অর্থায়ন না থাকায় প্রকল্পটি বন্ধের কথা নিজে থেকেই বলেছে কমিশন।
এরমধ্যে কমিশনের কোনো ব্যর্থতা নেই বলে মনে করেন তিনি।
কমিশন সচিব বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে-- এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দাতাদের অর্থায়ন না থাকায় কমিশন নিজে থেকেই প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরবর্তীতে ২০১২ সালের এপ্রিলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা সংক্রান্ত-এসইএমবি প্রকল্প হাতে নেয় ইউএনডিপি। আগামী ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদের এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় ১৪১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান আসে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রকল্পে অর্থ সাহায্য দিলেও প্রায় এক বছর আগে থেকেই অর্থায়ন নিয়ে চলছিল টানাপড়েন।
গতবছরের উপজেলা নির্বাচন এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম এবং তা তদন্তে গড়িমসি নিয়ে এরইমধ্যে কথা বলেছেন এ দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
দেশের সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলো নিয়ে পশ্চিমাদের অসন্তোষের মধ্যে দাতারা তহবিল জোগানো বন্ধ করে দিলে বৃহস্পতিবার মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই প্রকল্প গুটিয়ে নেয় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি।
বিগত ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। এরমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে আধুনিক নির্বাচন পদ্ধতির কাজেও সহযোগিতা দেয়।