নির্বাচন

পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর

নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন

পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

সিইসি বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রত্যাহারের শেষ সময় রাখা হয়েছে ১৩ ডিসেম্বর। ফলে প্রচারের জন্য দুই সপ্তাহ সময় পাবেন প্রার্থীরা।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—তবে এ নির্বাচনের প্রচারে মন্ত্রী-সাংসদেরা অংশ নিতে পারবেন না।

সিইসি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১০০ ভোটারের সমর্থনযুক্ত সই লাগবে— ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা তাদের সমমর্যাদাভোগী ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কেন কথা বলেননি— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আইন যখন হয় আমরা জানতাম না। একবার অধ্যাদেশ জারি করল। পরে সংসদে নিয়ে বিল পাস করল। এ নিয়ে আমাদের দুবার কাজ করতে হয়েছে। সময় কম, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেজন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে বসার সুযোগ হয়নি।

সোমবারের তথ্য:

এরআগে সোমবার রাতে বাংলাদেশের ২৩৬ পৌরসভায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণার কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ইসির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রাখা হতে পারে। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রত্যাহারের শেষ সময় রাখা হবে ১৩ ডিসেম্বর। ফলে প্রচারের জন্য দুই সপ্তাহ সময় পাবেন প্রার্থীরা।

তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিজি প্রেস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতেও নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর এবারই প্রথম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে রাজনৈতিক দলের নেতারা সংসদ নির্বাচনের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোট চাইবেন।

শুরুতে সব পদে নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইন সংশোধন হলেও পরে কাউন্সিলরদের বাদ রেখে পুনর্বার সংস্কার আনা হয় আইনে। ফলে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে।

জানা গেছে, প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিতে ভোট আয়োজনের আগে নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা জারিতে বিলম্বের কারণে একেবারে শেষ সময়ে ইসিকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালায় এসআরও নম্বর নিয়ে ইসি যুগ্মসচিব মো. শাহজাহান কমিশনে প্রবেশ করেন সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়।

এরপর গেজেটের আনুষ্ঠানিকতা সেরে সিইসি, জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক ও নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বৈঠকে করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে তিন শতাধিক পৌরসভা রয়েছে এর মধ্যে ডিসেম্বরে ২৪০টির বর্তমান মেয়র-কাউন্সিলরদের মেয়াদ ডিসেম্বরে ফুরোচ্ছে।

এরমধ্যে ২৩৪টিতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ৭০ লাখের মতো বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গড়ে প্রতি পৌরসভায় সাধারণ ওয়ার্ড ১১টি, সে হিসেবে নির্বাচন উপযোগী পৌরসভায় ওয়ার্ড থাকবে আড়াই হাজারের মতো।

২৩৬ জন মেয়রের পাশাপাশি আড়াই হাজার সাধারণ কাউন্সিলর এবং আট শতাধিক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন ৭০ লাখ ভোটার।

শুধু মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রেখে সংশোধিত আইনের গেজেট শনিবার জারি হওয়ার পর পৌর নির্বাচনের বিধিমালা চূড়ান্ত করে ইসি। আগে একবার তা তৈরি করলেও তাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্যে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সম পর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রত্যায়নের বিধান থাকবে।

দলকে এক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণার ৫ দিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এবং ইসি সচিবালয়ে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি ও নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি দিতে হবে।

মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে সংসদ নির্বাচনের মতোই। তবে ১০০ ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা দেয়ার বিধান রাখা হচ্ছে বিধিমালায়, যা সংসদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সমর্থন যাচাই করার জন্যে তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫ জনকে বাছাই করা হবে।

পৌরসভা প্রতি ১ লাখ টাকা দলীয় ব্যয় রাখাসহ আইনের আলোকে মনোনয়নপত্র, প্রতীক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সব কিছু থাকছে বিধিমালায়।

মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে পৌর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাখা হচ্ছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

৫৭টি জেলা পরিষদে নির্বাচন চলছে

আরআরএফ'র নতুন সভাপতি বাদল, সম্পাদক বাবলু

ইভিএমে ভোট জালিয়াতি হবে না, যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: সিইসি

উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার

জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ ইসির

ইভিএমে ত্রুটি আছে, দাবি সুজনের

সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম: ইসি

গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচন ১২ অক্টোবর

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ