আবারো নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে সমালোচনায় মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জন্য প্রতীক রাখা হয়েছে চুড়ি, চকলেট, পুতুল, ফ্রক, কাঁচি, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি, আঙুর, গ্যাসের চুলা ও হারমোনিয়াম।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রতীক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। ওই সময় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতীক দেয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যতে বিবেচনা করার কথা বলেছিল কমিশন। তবে এবারো আগের ধারাই অনুসরণ করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি বিভাগের পরিচালক শীপা হাফিজার মতে, এ ধরনের প্রতীক নারী ও নারী আন্দোলনের জন্য অবমাননাকর এতে নির্বাচন কমিশনের সংকীর্ণ মনোবৃত্তির পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা প্রতীক চুড়ি, পুতুল, চকলেট, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ পরিবর্তনের দাবিতে গতকাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আজমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মহিলা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা l
বাগেরহাটের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী শারমীন নাহার বলেন, নারীদের জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন—এ ধরনের প্রতীক দেয়া হলে ভালো হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এমন সব প্রতীক নারী কাউন্সিলরদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অবমাননাকর। এর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবশেষ নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রতীক নিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় সমালোচনার পর এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে তারপরও প্রতীক নিয়ে কারও কারও খারাপ লাগা থাকতে পারে। তবে কাউকে খাটো করার জন্য কমিশন এটা করেনি।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। এসব পৌরসভায় সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন।