নিজের তৈরি করা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধি নিয়ে নিজেই বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিধি অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর থেকেই নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেয়া যাবে এমন বলা হলেও কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থীই দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
এদিকে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ভুল সংশোধন না করলে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিতে পারবে না কমিশন। তবে, কমিশন বলছে এ ভুলের জন্য নির্বাচন পরিচালনায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না বলেও জানান ইসি সচিব।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, মেয়র প্রার্থীরা ১৪ ডিসেম্বরের (সোমবার) আগে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বৈষম্যের স্বীকার হবেন। কারণ সেইদিনই তারিখেই প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
তবে প্রথমবারের মতো একই নির্বাচনে দুই নিয়ম অর্থাৎ মেয়র পদে দলীয় প্রতীক আর সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলদের ক্ষেত্রে নির্দলীয় হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দের আগেই দলীয় প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন কিনা এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে কমিশন।
এদিকে, তাড়াহুড়ো করে পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা করতে গিয়ে ভুল করেছে কমিশন। আর এ ভুল সংশোধন না করলে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিষয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তিন সংসদ সদস্যকে শোকজ করা হলেও আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান সিরাজুল ইসলাম।
এদিকে, সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থনে ভোট চাইছেন।
নির্বাচনে ২৩৫ পৌরসভায় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের দলীয় প্রতীকের বিষয়টি সবার জানা। তাই বরাদ্দের আগে তারা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন কিনা এ বিষয়ে কমিশন থেকে বুধবার ব্যাখ্যা দেয়া হতে পারে।
এক্ষেত্রে প্রতীক বরাদ্দ না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, কাউন্সিলর ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন ১৪ ডিসেম্বর।