সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচনে বেশ কিছু অনিয়ম ও সহিংসতা হয়েছে— তবে তা পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি এ মতামত তুলে ধরেছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু নির্বাচনের দিন দেখে বলা যায় না যে, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইসি পুরোপুরি দৃঢ়তা দেখায়নি।
ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ বলেছে, নির্বাচনের দিন বিএনপি ৬০টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে –তারমধ্যে ৫০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ইসি। এটা কমিশনের একটা ইতিবাচক দিক।
সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২৩৪টির মধ্যে ১১১টি পৌরসভার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে— তাদের পর্যবেক্ষক ছিল ১১৯৮ জন। পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক খসড়ার ভিত্তিতে তারা আজ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে।
ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের তথ্যে, তাদের পর্যবেক্ষণ করা কেন্দ্রে সকাল ১০টায় ভোটের হার ছিল ২২% দুপুর একটায় ৫২%। বিকেল ৩টায় ৬৬%। চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে এ হার দাঁড়ায় ৭২%।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, পৌর নির্বাচনে বেশ কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে আবার অনেক কেন্দ্রে ভালো নির্বাচনও হয়েছে আর সহিংসতার ঘটনাগুলো সার্বিক নির্বাচনের চেহারা পাল্টে দেয়নি।
ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ জানিয়েছে, তারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ৬৩টি এবং বাইরে ১০৩টি সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে— পর্যবেক্ষণ এলাকার ১২% ভোটকেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিল না আর দুই শতাংশ কেন্দ্রে ছিল না আওয়ামী লীগের এজেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সংস্থার পরিচালক আবদুল আলিম। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংস্থার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম ও তালেয়া রেহমান।