ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যালট ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৫৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে।
নির্বাচনে অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট বর্জন করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট জালিয়াতিতে বাধা দিলে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস ও তার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছুঁড়লে রুহুল কুদ্দুস ও তার ছোট ভাই রুহুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে, বরিশালের রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকার দলীয় লোকজন ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। এসময় বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে ভোলার বোরহানউদ্দিনের কুতুবা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া বোরহানউদ্দিনে সাচড়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রসহ ৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। লালমোহন ও সদরে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক।
কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়নে দুই ইউপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। এসময় প্রায় আধঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়।
এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলার ভানি ইউনিয়নের ক্ষিরাইকান্দি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার মরিচপুরানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কেন্দ্রে আওয়ামী সমর্থকদের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত। এখানে ৪ জন আহত হন। নির্বাচনি সহিংসতায় রাজনগরে আহত হয় ৬ জন।
পিরোজপুরের কাউখালির ছয় আনা রঘুনাথপুরে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারকে গুলি করে ব্যালটবাক্স ছিনতাই করা হয়েছে।
এদিকে, কলাপাড়ার চাকামাইয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ -বিএনপির সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
পিরোজপুরের সোহাগদল, সমুদয়কাঠি, সুটিয়াকাঠিতে বিএনপি প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন। শারেংকাঠিতে নির্বাচন বর্জন করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
এদিকে, সকালে নোয়াখালীর হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নে ২ নম্বর ভোটকেন্দ্র যাবার পথে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারকে গুলি করেছে দুর্বত্তরা।