প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একচেটিয়া জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। আর ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির।
৬৭৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের ৪৫৪ জন এবং বিএনপির ৩৬ জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে আগেই ক্ষমতাসীন দলের ৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সবশেষ ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির লড়াই সমানতালে হলেও এবার প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বিভাগ থেকে শুরু করে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চলে সবখানেই আওয়ামী প্রার্থীদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি বিএনপি প্রার্থীরা। গতকাল- মঙ্গলবার এ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবার ফিরে যাই প্রাপ্ত ফলাফলে:
আ.লীগ: ৪৫৪ , বিএনপি: ৩৬, জাতীয় পার্টি: ০৪, স্বতন্ত্র ৩০ ও অন্যান্য ৫৭ প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ: মোট: ইউপি-১০, আ. লীগ-১০।
বগুড়া: আ.লীগ-০৬, বিএনপি ২, বিএনপি বিদ্রোহী ২, স্বতন্ত্র ২
রংপুর: আ. লীগ-০১।
সাতক্ষীরা: মোট ইউপি ৭৮, আ. লীগ-৪৬, আ. লীগ বিদ্রোহী-১০, বিএনপি-৯, স্বতন্ত্র: ০৬, জাতীয় পার্টি ০১, ফলাফল স্থগিত ৬ ইউপি
ঝিনাইদহ: মোট ইউপি: ৫, আ. লীগ-৫
বরগুনা: আ. লীগ-২৪, বিএনপি ২, স্বতন্ত্র ৬
ভোলা: আ’ লীগ-৩০, স্বতন্ত্র-১, অন্যান্য ২
নোয়াখালী: আ’ লীগ-১১, আ.লীগের বিদ্রোহী ৪
লক্ষ্মীপুর: মোট ইউপি: ৬, আ. লীগ-৬
বরিশাল: মোট ইউপি: ৭৪, আ.লীগ-৬২, জাতীয় পার্টি ০১, ওয়ার্কার্স পার্টি ১, স্বতন্ত্র ৪, অন্যান্য ২, স্থগিত কেন্দ্র ৫টি।
যশোর: মোট: ইউপি ১৬, আ.লীগ ১১, বিএনপি ৩, আ.লীগের বিদ্রোহী ২।
নেত্রকোনা: মোট: ইউপি-৬, আ.লীগ ৪, স্বতন্ত্র ১, অন্যান্য ১।
সিলেট: মোট: ইউপি ৮, আ.লীগ ২, বিএনপি ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ৩, বিএনপির বিদ্রোহী ১।
কুমিল্লা: মোট ইউপি-১৩, আ.লীগ ১০, বিএনপি ১, স্বতন্ত্র ১, একটি স্থগিত।
সিরাজগঞ্জ: মোট ইউপি ৯, আ.লীগ ৬, বিএনপি ২, স্বতন্ত্র ১।
চট্টগ্রাম: মোট ইউপি ১, আ.লীগ ১।
খুলনা: জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আ.লীগ ৪৯, আ.লীগের বিদ্রোহী ৮, বিএনপি ০৪, বিএনপি বিদ্রোহী ২, স্বতন্ত্র ৩।
বাগেরহাট: মোট ইউপি ৭৩, নির্বাচন হয়েছে ৪১ টিতে, আ.লীগ ৩৯, আ.লীগের বিদ্রোহী ২ (স্বতন্ত্র)। এছাড়া ৩২টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ: মোট ইউপি ১১, আ.লীগ ৭, বিএনপি ২, বিএনপি বিদ্রোহী ০১, আ.লীগ বিদ্রোহী ০১।
ময়মনসিংহ: মোট ইউপি ১০, আ.লীগ ৪, বিএনপি ৪, বিএনপি বিদ্রোহী ১, একটি স্থগিত।
কক্সবাজার: আ.লীগ ৬, আ.লীগের বিদ্রোহী ৩।
গোপালগঞ্জ: আ.লীগ ৫।
ঢাকা (দোহার): আ.লীগ ২, স্বতন্ত্র ৩।
শেরপুর: আ.লীগ ৮, বিএনপি ০১।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আ.লীগ ১৩, বিদ্রোহী প্রার্থী ২।
মাদারীপুর: আ. লীগ ৬।
পাবনা: আ.লীগ ৯।
কুষ্টিয়া: স্বতন্ত্র ০১।
পঞ্চগড়: আ.লীগ ২, বিএনপি ২, বিএনপির বিদ্রোহী ০৩।
দিনাজপুর: আ.লীগ ৩, বিএনপি ১।
ঝালকাঠি: আ.লীগ ২৮, আ.লীগ বিদ্রোহী ২।
পটুয়াখালী: আ.লীগ ৩৮, জাতীয় পার্টি ০২, স্বতন্ত্র ১, বিএনপি ১, আ.লীগের বিদ্রোহী ৪।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।
সারা দেশে প্রথম দফার ৭১২টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শেষে ৫৮১টি ইউপি নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চেয়ারম্যান পদের মধ্যে ৪৫৪ টিতে আওয়ামী লীগ, ৩৬টিতে বিএনপি, ৩০ টি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৪টিতে জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে ৫৭ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবার ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৫৪টি আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে ৬৫৮টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে, সহিংসতার কারণে মহেশখালী, কাউখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, দিঘলিয়াসহ ৭৭টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে কমিশন।
গত ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনের পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচন আবারো পরিণত হয় নৌকা ও ধানের শীষের মর্যাদার লড়াইয়ে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি।