সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কমিশনের বলে জানান সাবেক কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচনী সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না কমিশন।
দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, বারবার অন্যের উপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না। এ মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
ভোট সুষ্ঠু করার মূল দায়িত্ব কমিশনের উল্লেখ— করে নির্বাচন পর্যক্ষেক শারমিন মুরশিদ বলেন, বরাবরের মতোই এবারও অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন, যা সত্যিই দুঃখজনক। নির্বাচনী সহিংসতার জন্য কমিশনের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকেও দায়ী করেন তিনি।
এছাড়া দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন লেখক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ব্যর্থ অভিহিত করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
বাকি নির্বাচনগুলোতে যাতে সহিংসতা এবং অনিয়মের ঘটনা না ঘটে সেজন্য এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন শারমিন মুরশিদ ও আবুল মকসুদ।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগের কমিশনের অধীনের নির্বাচনগুলোর চেয়ে এসব নির্বাচনে তুলনামূলক অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটায় প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন। সর্বশেষ দলীয় প্রতীকে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনেও একই প্রশ্নের মুখোমুখি ইসি। দুই ধাপে মোট এক হাজার ৩শ ৫১ টি ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ভোটগ্রহণের সময় এবং এর আগে-পরে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় মারা যায় ৩৩ জন। আর আহত হয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যার ফলে নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতায় প্রাণহানির দায় কমিশনকেই নিতে হবে।
পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকেও এর দায় নিতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ইউপি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে কমিশন অনিয়ম ঠেকাতে পারবে না কি না সে ব্যাপারেও সংশয় প্রকাশ করেন তারা।