নির্বাচন

ইউপি নির্বাচন: চার ধাপে এ পর্যন্ত ১০১ জনের প্রাণহানী

ইউপি নির্বাচন
ইউপি নির্বাচন

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম চার ধাপে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন—অতীতের যেকোনো ইউপি নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া যে কোনো মূল্যে জয়ী হওয়ার মনোভাব থেকেই এতো লোকের প্রানহানি। এজন্য সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী বলে তাদের অভিমত। এক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্ট্যজনেরা।

দলীয় প্রতীকে সারাদেশে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ৪ ধাপে এ নির্বাচনের ৪ ধাপ শেষ হয়েছে। শনিবার হবে পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে হয়েছে ব্যাপক সহিংসতা। ঘটেছে অনেক প্রাণহানী।

এ ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে সুজনের কেন্দ্রীয সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এ সহিংসতায় আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক মারা গেছেন ৪০ জন। মনোনয়ন বাণিজ্য, দলীয় প্রভাব, প্রশাসনের ও নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকাকে দায়ী করা হয়।

নির্বাচনে এতো লোকের প্রানহানীর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, এজন্য নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতাকে দায়ী করেন।

এটা রোধে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের আহবান জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনগুলোতে এই সংহিসতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও সরকারকেও কঠোর ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

সুজনের দাবি:

সুজনের দাবি, এর আগে ১৯৮৮ সালের নির্বাচন সবচেয়ে বেশি সহিংসতাপূর্ণ ও প্রাণঘাতী ছিল। ওই নির্বাচনে ৮০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউপি নির্বাচনে ১০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ২৩ জন মারা যায়।

সুজন জানিয়েছে, এইবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে ১০১ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সংঘর্ষে ৪৫ জন, ভোটের দিন সংঘর্ষে ৩৬ জন এবং ভোটের পর সংঘর্ষে ২০ জন মারা গেছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক ৪০ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ১২ জন, বিএনপির দুজন, জাতীয় পার্টির (জেপি) একজন, জনসংহতি সমিতির একজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী দুজন নিহত হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ৩১ জন, ১২ জন সাধারণ মানুষ। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনটি শিশু, একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং তিনজন মেম্বর প্রার্থী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ২১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি ৫৫৪ ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

৫৭টি জেলা পরিষদে নির্বাচন চলছে

আরআরএফ'র নতুন সভাপতি বাদল, সম্পাদক বাবলু

ইভিএমে ভোট জালিয়াতি হবে না, যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: সিইসি

উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার

জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ ইসির

ইভিএমে ত্রুটি আছে, দাবি সুজনের

সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম: ইসি

গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচন ১২ অক্টোবর

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ