গোলযোগ ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ৬৯৮টি ইউনিয়নে— বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে অনিয়ম আর কারচুপির ঘটনা। প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ আর ব্যালট ছিনতাইয়ের সময় ফেনীতে নিহত হয়েছে একজন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালথিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া কেন্দ্রে সহিংসতায় নিহত হয়েছে আরো একজন। সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছে। কারচুপির অভিযোগে ৭টি ইউনিয়নে ভোট বর্জন করেছেন প্রার্থীরা।
ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপে নির্বাচনে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ৮টা থেকেই অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বরাবরের মতো নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি।
ময়মনসিংহসহ বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে যান ভোটাররা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট তারা। বিকেল ৪টায় শেষ হয় ভোটগ্রহন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালথিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ফেনীর সোনাগাজীর চর ভৌরব গ্রামে তোফায়েল আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন ৫ পুলিশসহ ১৫ জন।
নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান স্বপন ও অশ্বদিয়া ইউনিয়নের আবুদুল্লা আল ফারুক নির্বাচনে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন।
এছাড়াও কাদিরহানিফ ইউনিয়নের মেম্বার পদপ্রার্থী আবদুর রহিমও ভোট বর্জন করেছেন। এদিকে, নেয়াজপুর ইউনিয়নের ভেলা নগর কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১ জন।
যশোরের শার্শার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর স্কুল কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক প্রার্থী। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একই ইউনিয়নে ভোট দিতে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানি ইউনিয়নের মুক্তারপুর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী দলবল নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের বাধা দেয়। এসময়, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে, আহত হয় অন্তত ১০ জন। এদিকে, গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীচারি ইউনিয়ন থেকে বহিরাগত ১৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গুরুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থীর ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। কমিরগঞ্জের দেহুন্দা উইনিয়নে ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র স্থগিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এঘটনায় আহত হয়েছে অনেকে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নেও নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও ভোটকেন্দ্র যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খান জাহাঙ্গীর হোসেনের ভোট বর্জন করেছেন।
শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নে ভায়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটির কাপ্তাই এবং কাউখালীতে বিএনপির ২ প্রার্থীর ভোট বর্জন। নাটোরের বাগাতিপাড়া, জামনগর, বিয়াঘাট ও চাপিলা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার এক দোয়ারিয়া ইউনিয়নে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী বাসেদ মোল্লার নির্বাচন বর্জন করেছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনী এলাকায় এখ লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।