নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে রোববার মেয়র পদে নয় জনের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার সকালে মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাইয়ের সময় দাখিলকৃত ৯টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টি পত্র বৈধ ঘোষণা করে ১টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আর মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
সিটি সিটি নির্বাচনে মেয়র এবং ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলরসহ ৩টি সংরক্ষিত আসনে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে।
সকালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটানিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার প্রথমে মেয়র প্রার্থীদের জমা হওয়া ৯টি মনোনয়ন যাচাই বাছাই করেন।
নিয়ম মতে নির্ধারিত ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় সুলতান মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন তিনি।
বৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী অ্যঅডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের জনপদ উল্লেখ্য করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ সময় বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিবাচন সুষ্ঠু অবাধ করতে আবারো সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
বৈধ অস্ত্র জমা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তিনি প্রশাসনের দলবাজ কর্মকর্তাদের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন পর্যন্ত কর্ম থেকে বিরত রাখারও আবেদন করেছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে উপস্থিত মনোনয়নে প্রস্তাবকারী প্রতিনিধি আব্দুর রাসেদ রাশু জানান বর্তমান পরিস্থিতে মনে হচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটানিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আচরণ বিধি ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেনাবাহিনী প্রয়োজন হতেও পারে, যখন যা প্রয়োজন তখন তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকালের তথ্য:
ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই দিয়ে শুরু হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এ বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সিটি নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এদিকে, মনোনয়োনপত্র বাতিল হয়ে যাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
রির্টানিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের জন্য ১৮টি ওয়ার্ড ও ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।
বাতিল হয়ে যাওয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করা প্রার্থীরা নিয়ম মেনে আপিল করতে পারবেন। আপিলে বৈধতা ফিরে পেলে প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন সিটি নির্বাচনে জানান নির্বাচন কর্মকর্তা।
রোববার মেয়রসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের কাউন্সির পদের প্রার্থিতা বাছাই করা হবে। বাতিল হয়ে যাওয়া মনোনয়নপত্রের প্রার্থিরা নিয়ম মেনে আপিল করতে পারবেন।
আপিলে বৈধতা ফিরে পেলে প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন সিটি নির্বাচনে।
আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৫ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।