নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে দিন-রাতই মাঠে গণসংযোগ চালাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভি, ভোটারদের ওপর আস্থা রাখতে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আর বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ব্যাপক ব্যবধানে বিজয়ী হবেন তিনি।
এদিকে, কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকেই কালো টাকার মালিক ও মামলার আসামি বলে দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে চাইছেন ভোট।
প্রচারণার সপ্তম দিন রোববারও ব্যস্ত সময় কাটান মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভি ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ চালান। দল-মত নির্বিশেষে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইভী বলেন, ‘নৌকাকে বিজয়ী করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক হয়ে মাঠে নেমেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যেখানে এক হয়ে গেছে, সেখানে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। গতবার জনগণ আমাকে জিতিয়েছে। এবারও আমার ভরসা জনগণই।’
এদিকে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালান বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। ভোটারদের আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের। নাগরিক সুযোগ সুবিধার দিকে নজরদারীর কথাও বলেন তিনি।
সরকারদলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে সাখাওয়াত বলেন, ‘আমি সে রকম লোকই না। আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের কারণ আইভী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। এ কারণেই তিনি এসব কথা বলছেন।’
নির্বাচন নিয়ে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সংগঠনটির নেতারা কাউন্সিলর প্রার্থীদের বেশিরভাগই কালো টাকার মালিক ও মামলার আসামি বলে দাবি করে ভোটারদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।
এছাড়া ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে কোনো বিশেষ প্রার্থী বা দলের অনুগত হয়ে কাজ করতে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।
সংগঠনটি একইসঙ্গে অর্থ প্ররোচনা ও আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ না করাসহ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদেরও আচরণবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানানো হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
এছাড়া ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে কোনো বিশেষ প্রার্থী বা দলের অনুগত হয়ে কাজ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।