নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামীকাল (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে। শেষ প্রান্তে এসে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও গণসংযোগ আর প্রচারণায় রাতদিন চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা।
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ কেউ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। তবে, তারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন কঠোর থাকলে এবারও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, এ নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
নাসিক নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের প্রচারণার তোড়জোড়ও বাড়ছে সমান তালে। দিনরাত পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন তারা— চাইছেন ভোট। তবে অধিকাংশ কাউন্সিলর প্রার্থীর অভিযোগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের পোষ্টার ছিড়ে ফেলছেন।
প্রচারণায় কর্মীদের বাধা দেয়াসহ কেন্দ্র দখলের হুমকিও দিচ্ছেন অনেকে। এসব কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা অনেক প্রার্থীর।
পুলিশ সুপার মঈনুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রয়েছে।
নির্বাচনে নিয়োজিত পুলিশ র্যা ব বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সবদিকে খেয়াল রেখে কাজ করছে বলেও জানান এ পুলিশ সুপার।
এদিকে, দুপুরে জেলা ও মহানগর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতী এ ঘোষণা দেন, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থনের।
পরে জাতীয় পার্টির নেতারা আইভীর পক্ষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন।
এর আগে সকালে গণসংযোগে নেমে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সিটি নির্বাচনে নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সোমবার থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মোতায়েনকে হাস্যকর।
নির্বাচনকে ঘিরে কোথাও যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে,সেই ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে ৭৯ ভাগ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৭টি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ঢেলে সাজাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ১৬টি সংস্থার ৩২০ জনকে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। যাদের মধ্যে দুই জন বিদেশি। এছাড়াও পুলিশ র্যা বের পাশাপাশি নামানো হয়েছে বিজিবি।
পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠুভাবে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ।
এদিকে, ভোটাররা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে আশঙ্কা রয়েছে শুরু থেকেই।
এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৩২০ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে ১৮৫ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও কেন্দ্রীয় ভাবে রয়েছে ১৩৩ জন। এছাড়াও এশিয়া ফাউন্ডেশনের দুই বিদেশী পর্যবেক্ষকও রয়েছে।
এনসিসি নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩২ জন। ২২ তারিখ নির্বাচনের মধ্যমে তারা খুঁজে নেবেন নতুন নগরপিতা।