আজ-মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন- নাসিক নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। শহর জুড়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, কেউ ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালাবে বলে জানান পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান।
দুপুরে পুলিশ লাইন এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডিআইজি নুরুজ্জামান বলেন, ‘আইনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর বিধান রয়েছে। নির্বাচনে কেউ ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছুড়বে। যদি কোনো পুলিশ সদস্য গুলি না ছোড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার অতিরিক্ত ফোর্স দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আরো দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ভোটের ৭২ ঘন্টা আগে সোমবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে প্রচারণায় বহিরাগতদের অংশগ্রহণ।
কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ভোট সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ সকাল থেকেই শেষ মুহূর্তে জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন সেজন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিও শেষপর্যায়ে।
শেষ হতে চলেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর আর গণসংযোগ চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। আর তাই শেষদিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। উন্নয়ন ও পরিবর্তনের আশ্বাস নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে।
প্রচারণার শেষ দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নৌকা আর জনগণ একাকার হয়ে গেছে,২২ তারিখের জন্য আমি অপেক্ষায় আছি।
প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন তিনি। নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় সরকারি দলের প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সকালে গণসংযোগে নেমে সাংবাদিকদের সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিটি নির্বাচনে নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সোমবার থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মোতায়েনকে হাস্যকর।
সেইসঙ্গে, নির্বাচনকে ঘিরে কোথাও যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সেই ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।
আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৭ টি ওয়ার্ডে সাধারন কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।