নির্বাচন

যে তিন কারণে হারল বিএনপি

যে তিন কারণে হারল বিএনপি
যে তিন কারণে হারল বিএনপি

নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ; দৃশ্যত কোনও অনিয়মও চোখে পড়েনি। তারপরও প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করোপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি। এ হারের জন্য দলটি অভিযোগ তুলেছে কারচুপির চেয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত।

নারায়ণগঞ্জে ভোটের ফলাফল সম্পর্কে বিএনপির এমন মূল্যায়ন হলেও স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তি, সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থীর ইমেজ ও প্রচার কৌশলে ব্যর্থতা এ সবই মূলত হারের এতো বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ - বরাবরই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। এর আগে স্বতন্ত্রভাবে হলেও দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলো ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও দৃশ্যত অবাধ-সুষ্ঠু এ নির্বাচনে হেরে গেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান।

পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করা হয়েছে। নেতাদের কেউ কেউ আবার এ ফলকে অবিশ্বাস্য বলেও উল্লেখ করেছেন। দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির এমন ব্যাখ্যা-অভিযোগের বাইরেও অনেক কারণই দৃশ্যমান দলীয় প্রার্থীর এই পরাজয়ে। নারায়ণগঞ্জে থাকলেও সাখাওয়াতের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তৈমূর আলম খন্দকারের ঘনিষ্ট হওয়ার পরও শহর বিএনপির কমিটিতে মূল্যায়ন না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন সাখাওয়াত। সে থেকেই বিভক্তি নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে। তৈমুরের সঙ্গে তার দূরত্বও বাড়ে। ফলে কেন্দ্র থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে একাট্টা হতে পারেননি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভির পক্ষে যেমন শামীম ওসমান গ্রুপ কাজ করেনি তেমনি তৈমূর গ্রুপের সমর্থন পাননি সাখাওয়াত। সাংগঠকিভাবে অভিজ্ঞ হওয়ার পরও পছন্দের প্রার্থী এটি এম কামাল মনোনয়ন না পাওয়ায় মনোক্ষুণ্ণ ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার।

এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে অদক্ষতা রয়েছে বলে জানান বিশ্লেষক আসিফ নজরুল।

অন্যদিকে, সাত খুন মামলার আইনজীবী হিসেবে খ্যাতির বিপরীতে ত্বকী হত্যা মামলার বিবাদীপক্ষের আইনজীবী হওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি সাধারণ ভোটার আর নাগরিক প্রতিনিধিরা।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ঠিকই তবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে না গিয়ে প্রাচারণা সেরেছেন দায়সারাভাবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাখাওয়াতের প্রচারণায় যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার যাওয়া হয়নি। ফলে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।

দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টিও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে— জাতীয় নির্বাচনেও এ বিষয়টি বিএনপিকে বেশ ভোগাবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভি মেয়র হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বেশ উন্নয়ন করেছেন গত পাঁচ বছরে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও কাজ করেছে ভোটারদের হিসাব-নিকাশ মেলাতে।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ৭৯ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পরাজিত করেন। আইভী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট পান। অপরদিকে সাখাওয়াত ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট পান।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

৫৭টি জেলা পরিষদে নির্বাচন চলছে

আরআরএফ'র নতুন সভাপতি বাদল, সম্পাদক বাবলু

ইভিএমে ভোট জালিয়াতি হবে না, যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: সিইসি

উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার

জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ ইসির

ইভিএমে ত্রুটি আছে, দাবি সুজনের

সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম: ইসি

গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচন ১২ অক্টোবর

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ